নিউজ ডেস্ক।।
ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে গত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এসব মামলায় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ট্রাফিকের আইন সবার জন্যই সমান। সেটা সরকারি হোক, বেসরকারি হোক। পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্যদের ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি। আমাদের পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
সরকারি কর্মকর্তারা, সরকারি গাড়িগুলো ট্রাফিক আইন মানতে চান না। ঢাকা শহরের প্রায় প্রত্যেকটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি হুটার লাগানো। যেখানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই সেখানেও হর্ন বাজানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে যাতায়াত করেন। সেখানে অন্যদের ব্যাপারে তো অবশ্যই সরকারি হোক বেসরকারি আমাদের অবস্থান কিন্তু স্পষ্ট ট্রাফিক আইন যিনি লঙ্ঘন করবেন ট্রাফিক আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেখানে হর্ন বাজানো নিষেধ বা হুটার তো আসলে আপনার সাধারণ যানবাহন যেগুলো আছে ইমার্জেন্সি যানবাহন ছাড়া কেউ হুটার বাজাতে পারবেন না। সেটা কিন্তু ট্রাফিক আইন এবং বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে। এই বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান। আমাদের ট্রাফিকের ফিল্ডে যারা কাজ করেন, তাদের আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যারা এর ব্যত্যয় করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
সরকারি অনেক দপ্তরের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নেই। ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। পুলিশের অনেক যানবাহনও ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। এ ধরনের যানবাহন আইন অমান্য করলে এআই কীভাবে মামলা দেবে? জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি যানবাহন হোক ট্রাফিক আইন যদি কেউ লঙ্ঘন করেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, হচ্ছেও।
ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা আদালত কর্তৃক মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্তে ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। যার মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডসহ অন্যদের ক্ষেত্রে মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মে মাসে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। যার মধ্যে ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদি কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এআই প্রযুক্তি আমরা নতুন ইন্ট্রোডিউস করেছি। এখানে অটোমেটিক্যালি আমাদের যে প্রোগ্রামটা করে দেওয়া হয়। এই প্রোগ্রামের বাইরে যে গাড়িগুলো যাবে বা ক্রস করবে বাম লেনকে ব্লক করবে অথবা আবার যে লেন সেটাকে ক্রস করবে আইন অমান্য করবে সেই গাড়িগুলো অটোমেটিক্যালি আমাদের সিস্টেমে চলে আসে। যাচাই-বাছাই করে আরও নিশ্চিত হই যে এই অপরাধটি সে করেছে। এটা শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরে মামলাটি করা হয়।
ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে অভিযান চলমান। প্রতিদিনই ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এই রিকশাগুলো মোটরযান নয় এজন্য এর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ নেই। তবে ডাম্পিং করছি। ঢাকা শহরের সড়কে যে সব রিকশা চলার কথা নয় মেইন রোডগুলোতে, সেখানে রিকশা যাতে কোনোভাবেই না ঢুকতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি।
কুমিল্লা আদর্শ সদর-৩৫০০, মোবাইল : ০১৬৮২৯২৭২৯৩, Email: nagarbangla24@gmail.com
Copyright © 2026 nagarbangla24. All rights reserved.