নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় তার সঙ্গে সম্পর্ক ও শেষ ফোনালাপ নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু।
তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক, কক্সবাজারে দেখা হওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরার পর শেষ ফোনালাপ-পুরো ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন রাজু।
রাজু বলেন, গত ৬ অক্টোবর বাড়িতে ঝগড়া করে বেরিয়ে যান তাজমিন। পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর বাসায় ওঠেন। সেখান থেকেই রাজুকে ফোন করে তার সঙ্গে দেখা করবে। তাজমিন একা এত দূর কীভাবে আসবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি আসতে পারবেন বলে জানান এবং রাজুর কাছে অবস্থানের লোকেশন চান।
পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রাতের বাসে কক্সবাজারে পৌঁছান তাজমিন। সেখানে তাকে গ্রহণ করে একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। দুজন সেখানে একদিন অবস্থান করেন। এ সময় তাজমিনের বাবা-মা ফোন করছিলেন। তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলার পর তাকে বাসের টিকিট কেটে বাসে তুলে দেই।
রাজু বলেন, বাসে ওঠার পর তাজমিনের লাইভ লোকেশন কুমিল্লা পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি। এরপর তাজমিন ফোন করে জানান, বাড়িতে পৌঁছে দেখেছেন গেট বন্ধ। ঘরে ঢুকতে পারছেন না। বাবাকে ফোন করেও পাচ্ছেন না, তার ফোন বন্ধ।
রাজু বলেন, তখন তিনি তাজমিনকে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে এবং বাবাকে ডাকতে বলেন। প্রয়োজনে আশপাশের কারও কাছ থেকে নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন।
কিছুক্ষণ পর তাজমিন জানান, এক বন্ধুর বাবার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। রাতে বন্ধুর বাসায় থাকবেন। পরদিন সকালে নিজের বাড়িতে ফিরে যাবেন বলেও জানান তিনি।
রাজু জানান, ওই কথোপকথনের পর তাজমিনকে ভিডিও কল করেন। তখন তাজমিনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেন। এ সময় রাজু তাকে সিএনজি থেকে নেমে যাওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলেও জানান তিনি।
রাজুর দাবি, একপর্যায়ে তাজমিন ফোন কেটে দেন এবং লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন। পরে ম্যাসেজ পাঠিয়ে তাকে চিন্তা না করতে বলেন। এক ‘আঙ্কেলের’ বাসায় যাচ্ছেন, রাতে সেখানে থেকে পরদিন চলে যাবেন-এমন কথাও জানান তানজিন। ওই বার্তাটিই ছিল তাজমিনের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ।