শিরোনাম :
এলাকার উন্নয়নে আমার প্রিয় নেতা কাজ করে যাচ্ছেন, ব্রাক্ষণপাড়া-বুড়িচং উপজেলায় মাদক-কিশোর গ্যাং নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন, অভিযান চলমান: এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু মা*মলা-হা*মলা-জুলুমসহ অসহনীয় নির্যাতন সহ্য করার পরও দল ছাড়েননি- মো: খলিলুর রহমান মায়ের সামনেই মেয়েকে গু*লি, হ*ত্যাকা*ণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মা নড়াইলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ গ্রে*প্তা*র আসামি নিয়ে ফে*রার পথে এসআই ও বিএনপি নেতা নি*হত ই*য়া*বাসহ সাবেক সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী গ্রে*প্তার কুমিল্লায় চা*ঞ্চল্যকর অপ্রতীম হত্যা মা*মলা- আদালতে চার্জশিট দাখিল অনেক কিছু হারানোর পরও, ব্যক্তির ভালোবাসায়, আদর্শ থেকে সরে দাঁড়ায়নি-খলিলুর রহমান এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই, তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় ব্যক্তি, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: হাবিবুর রহমান রনি, ৫নং পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন… এলাকার মানুষের ভালোবাসায় মো: খোকন মেম্বার, এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫নং পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন…
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার চান্দিনায় বসতবাড়ির চলাচলের পথ আ*টকে বাঁশের বেড়া, অব*রুদ্ধ পরিবার

প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:

কুমিল্লার চান্দিনায় বসতবাড়ির উঠান ও যাতায়াতের মূল পথ আটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহীন মৈশান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে একটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। চলাচলের পথ বন্ধের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মাইজখার গ্রামের মৈশান বাড়িতে। ভুক্তভোগী মোহন মৈশান মৃত কোরবান আলীর ছেলে। অভিযুক্ত শাহীন মৈশান একই এলাকার শামছুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মোহন মৈশানদের দুই ভাই ও পাঁচ বোনের নামে মোট ৯০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে জমি বণ্টন করা হয়। ওই সময় মোহনের ভাই মতিন মৈশান নিজের ও এক বোনের অংশসহ ৩০ শতাংশ জমি মেপে বুঝে নেন। পরে তিনি ওই জমি শাহীন মৈশানের কাছে বিক্রি করেন।

পরিবারটির দাবি, জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ ও দখল বুঝে নেওয়ার পর কয়েক বছর কোনো সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি শাহীন দাবি করেন, বিক্রেতা মতিন মৈশানের কাছ থেকে তিনি আরও জমি পাওনা রয়েছেন। তবে সেই জমি দাবি করতে গিয়ে তিনি মোহন মৈশানের বসতভিটার অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোহনের দুটি বসতঘরের মাঝের উঠান ও যাতায়াতের প্রধান পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারটি নিজ বাড়িতেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী মোহন মৈশান বলেন, শাহীন আমার ভাই মতিনের কাছ থেকে জমি কিনে মেপে বুঝে নিয়েছিলেন। এখন কয়েক বছর পর এসে গায়ের জোরে আমার বসতবাড়ির সীমানায় ঢুকে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আমার বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে । আমরা এখন নিজ বাড়িতেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছি।
পূর্বে জোরপূর্বক ভাবে আমার বাড়ির কেয়ারটেকারের বাথরুম ভেঙ্গে ফেলে এবং পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায়।
মোহনের দুই বোন জাহানারা ও হোসনেয়ারা বেগম বলেন, মতিনের জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মতিনের সঙ্গে শাহীনের জমি নিয়ে কোনো হিসাব বাকি থাকলে তিনি মতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কিন্তু তা না করে আমাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ আটকে বেড়া দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল কালাম জানান, সালিশি বৈঠকে সবার উপস্থিতিতে সীমানা মেপে শাহীনকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি সন্তুষ্ট হয়েই জমি বুঝে নেন। এখন মতিনের কাছে জমি পাওনার অজুহাত দেখিয়ে মোহনের জায়গা দখল করা এবং পথ বন্ধ করা সম্পূর্ণ অন্যায়।

বাড়ির কেয়ারটেকার নাছিমা বেগম বলেন, গত তিন দিন ধরে আমি এই ঘরে অবরুদ্ধ। ঘরের দরজা খুললেই বাঁশের বেড়া। আমাকেও বারবার ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীন মৈশান। তিনি বলেন, আমি ২৬ শতাংশ জমি কিনেছি। আরও ৪ শতাংশের ওপর দিয়ে গ্যাসলাইন যাওয়ায় তা কিনিনি, তবে মতিন আমাকে ভোগ করতে বলেছেন। কিন্তু আমি এখনো ২৬ শতাংশ জমি পুরোপুরি বুঝে পাইনি। মতিন আমাকে জানিয়েছেন, উত্তরের দিকে আমার জমি পাওনা আছে। সে হিসাব অনুযায়ী মোহনের দিকেই আমার জায়গা রয়ে গেছে। তাই আমি বেড়া দিয়েছি। ঝামেলা মিটমাট না হওয়া পর্যন্ত বেড়া সরবে না।

এদিকে খবর পেয়ে চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াজ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়। এসআই মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মূল বিক্রেতা মতিন মৈশানকে ডেকে এনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে পুলিশের উপস্থিতির পরও বাঁশের বেড়া না সরানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে (ইউনো) জানান ঘটনাটি আমরা শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

;