নিউজ ডেস্ক।।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ জেলা ভোলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ভোলায় আনা হয়। হেলিপ্যাড থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুম এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন শেষে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলার এই কৃতী সন্তান ও প্রিয় নেতাকে শেষ নজর দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
স্কুল মাঠের জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি পূর্ব কোরালিয়ায়। সেখানে বাড়ির সামনে তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজাতেও দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অংশ নিয়ে এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে পূর্ব কোরালিয়ায় নিজ বাড়ির সামনে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণমানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাওয়া এই কিংবদন্তি নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁর প্রয়াণে ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।