শিরোনাম :
ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে যেতে বাধা, স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত-পা ভে*ঙে দিয়েছে স্বা*মী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃ*ষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃ*ত্যু পুলিশে বড় রদবদল, ১৪ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন ২৮ বছর দেশেই ছিলেন খুনি মোজাফফর দুই দফায় টানা ৪ দিন ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আসছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন মন্ত্রী ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী পালিয়ে যাওয়া হাসিনা বেগম গ্রেপ্তার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে চিকিৎসকদের কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

শাহজালালের মাজারের দানবাক্স সিলগালা, পাহারা বসালো প্রশাসন

Reporter Name
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক।।

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাজারের তিনটি দানের বড় ডেগের তালা সিলগালা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাজার এলাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আনসার সদস্য।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের মূল ফটকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এর আগে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্পষ্টতা দূর করতে গত শুক্রবার দুপুরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দুই মাজার- হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) দরগাহর বিদ্যমান দানবাক্সগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। সে সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার দুটি পরিদর্শন করে এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্‌ফ, এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। পরে একটি টেকসই ও স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করা হবে। মাজারে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে জানতে মাজারের খাদেম শামুন মাহমুদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই দুই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। মানত কিংবা শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ তারা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল পরিমাণ আয়ের সঠিক হিসাব এবং ব্যয়ের খাত নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা ছিল। দানের অর্থের হিসাব কার্যত আড়ালেই থেকে গিয়েছিল।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার পর মাজার ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে সিসিক ও জেলা প্রশাসনের একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্পষ্টতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে কয়েক দিন আগে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন, ওয়াক্‌ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়ের সুসংগঠিত কোনো রেকর্ড বা নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাবও উপস্থাপন করতে পারেনি।

এর পেরিপ্রেক্ষিতে সভায় মাজারের আয়-ব্যয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের (নিরীক্ষা) ওপর জোর দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category