বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

পদ্মার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Reporter Name
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক।।

বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজও নির্মাণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও পূর্ববর্তী সভাগুলোতে খাল খনন কর্মসূচি শুরুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। সরকার গঠন করার পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, কৃষি এবং সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি সড়ক নির্মাণের সময় কয়েকশ গাছ কাটার পরিকল্পনার বিষয়টি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হয়, যাতে গাছগুলো রক্ষা পায়।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্তভাবে উত্তোলনের ফলে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের পানি সংরক্ষণ ও খাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা দেশে তা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সীমান্তের ওপারে ব্যারাজ নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমে পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

প্রধানমন্ত্রী ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করে বলেন, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তিস্তা ব্যারাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিস্তা এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। দুর্যোগকে পুরোপুরি থামানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ক্ষতি কমিয়ে আনার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপণ এবং একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category