বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

স্বামী-সন্তান কেউই বেঁচে নেই, পেলেন মনোয়ারা ঘর উপহার

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক।।

স্বামী-সন্তান হারানোর শোক, দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন জীবন পার করছিলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৫৯)। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে তার একমাত্র থাকার ঘরটিও বিধ্বস্ত হলে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হয় তাকে। এ অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা–১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল।

ডেপুটি স্পিকারের সহায়তায় নতুন টিনের ঘর পেয়েছেন মনোয়ারা বেগম। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে নতুন ঘরে ওঠেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোয়ারার স্বামী আব্দুর রাজ্জক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের সামান্য জমিজমাও বিক্রি করে দেন মনোয়ারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার একমাত্র ছেলে আলিফ মিয়া। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবনযাপন শুরু করেন তিনি। অভাবের মধ্যেই প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিন মেয়ের বিয়ে দেন।

স্বামীর রেখে যাওয়া ছোট একটি টিনের ঘরই ছিল তার শেষ আশ্রয়। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে সেটিও ভেঙে যায়। এরপর খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন তিনি।

স্থানীয় আব্দুর রশিদ বলেন, ‌‘মনোয়ারা বেগমের ভাঙা ঘরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি ডেপুটি স্পিকারের নজরে আসে। পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘জীবনে একের পর এক কষ্টের মধ্যেও বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি। ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর নিজেকে পুরোপুরি অসহায় মনে হয়েছিল। এখন নতুন ঘর পেয়ে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘সমাজে এখনো অনেক মানুষ নীরবে কষ্ট সহ্য করে জীবনযাপন করছেন। মনোয়ারা বেগমের বিষয়টি জানার পর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই পাশে দাঁড়িয়েছি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category