নিউজ ডেস্ক।।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত ও লোভনীয় স্থানে বদলি এবং পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের বরাত দিয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, গত বুধবার (২০ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ডিএমপি পুলিশ কমিশনার ডিবিকে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জনৈক এক ব্যক্তি তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি প্রদান করতে পারবে মর্মে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের ফোন করে আসছে। ওই ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়ে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেনের জন্য যোগাযোগ করেছে মর্মে গোপন তথ্যে জানা যায়। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে কোনো কার্যক্রম করার সক্ষমতা রয়েছে বলে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে জানান অভিযুক্ত ব্যক্তি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বুধবার (২০ মে) রাতে হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ করা হয়।
ডিএমপির কর্মকর্তা এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, পরবর্তীতে গ্রেফতার আমিনুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরও একজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সঙ্গে জড়িত আরেক সদস্য নিলুফা সুলতানাকে (৫৬) গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।