নিউজ ডেস্ক।।
সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফাহিমার প্রতিবেশি চাচাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তার প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রাতে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে পাষণ্ড জাকির আহমদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাকিরকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার শাস্তির দাবিতে রাতে জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গ্রেফতার জাকির সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
প্রাথমিক জবানবন্দিতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও গলাটিপে হত্যা করেছে বলে জানায় জাকির। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে একজন মাদকাসক্ত। গত বুধবার বিস্কুট দেয়ার লোভ দেখিয়ে একা ঘরে নিয়ে ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় পাষণ্ড জাকির। এসময় তার অত্যাচারে চার বছরের শিশু ফাহিমা জ্ঞান হারায়। ওই অবস্থায় ভয় পেয়ে যায় পাষণ্ড জাকির। কাউকে বলে দেয়ার ভয়ে তখন সে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেয়।
এরআগে, গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে মায়ের কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে স্থানীয় বাজারে বিস্কুট কিনতে যায় ফাহিমা। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দুই দিন পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সোনাতলা গ্রামের রাইসুল হকের মেয়ে।
সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ সময় এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন জাকির ফাহিমাকে দিয়ে পাশের দোকান থেকে সিগারেট আনায়। ফাহিমা সিগারেট নিয়ে ফিরলে তাকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন শুরু করলে শিশুটি একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নিজের অপরাধ ঢাকতে জাকির তখন অবোধ শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর জাকির তার স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফাহিমার মরদেহ পেঁচিয়ে একটি ব্যাগে ভরে রাখে। একদিন পর রাতের আঁধারে মরদেহটি বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। গত শুক্রবার ওই ডোবা থেকেই ফাহিমার বস্তাবন্দী গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
জাকির হোসেন গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা জাকিরের ঘর ভাঙচুর করেন। পরে তারা জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার জাকির একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত। বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।