শিরোনাম :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: মেয়র শাহাদাত

Reporter Name
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক।।

চট্টগ্রাম নগরীকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, খাল খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) নগরের রসুলবাগ খালের খননকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা বলেন। বর্ষা মৌসুমের আগে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে চসিকের বিশেষ খাল খনন অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়রের তত্ত্বাবধানে একই দিনে নগরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালের খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে গোলজার খাল, গোসাইলডাঙ্গা এলাকার একটি খাল, দক্ষিণ আগ্রাবাদের নাসির খাল এবং হালিশহর বন্দর এলাকার বড় খাল। অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, চসিক প্রায় ৪০টি খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রথম ধাপে চারটি খালের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে ১৫ দিন থেকে এক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খননকাজ শুরুর আগে ও শেষ হওয়ার পর প্রতিটি খালের ছবি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেয়র অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এসব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বর্জ্য রাস্তাঘাট ও নালায় থেকে যাচ্ছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নালা-নর্দমায় ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র জানান, গত কয়েক বছরে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমের ফলে নগরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমেছে। অবশিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতাবিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category